স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত হত্যা: নওগাঁয় আন্তজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, ;
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবির প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে প্রধান সন্দেহভাজন আটক
মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্তকে কুপিয়ে স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার রনি ওরফে রনি প্রামাণিক (৩৮) ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন আসামি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার পাঁচটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সমন্বয়ে শুরু হওয়া তদন্তে পরবর্তীতে পিবিআই ও সিআইডিও যুক্ত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহাদেবপুর থানা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত দোকান বন্ধ করে সঙ্গে থাকা মূল্যবান স্বর্ণ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে আহত করে সঙ্গে থাকা স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।
ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। পাশাপাশি স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পিবিআই ও সিআইডি তদন্তে সহায়তা করে। সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম পুলিশ সুপার নিজেই তদারকি করেন।
পুলিশ জানায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয় ব্রতের নেতৃত্বে মহাদেবপুর থানা ও নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্ত দলটি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পাশাপাশি নওগাঁ শহরের ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে রনি ওরফে রনি প্রামাণিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে গত ২ অক্টোবর রাতে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল আত্রাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রনি প্রামাণিক নাটোর জেলার উত্তর আলাইপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নামাজ আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে রনির ব্যবহৃত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ৩৩ থেকে ৩৪টি সিমকার্ড ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার প্রত্যেকটিই স্বর্ণ চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসংক্রান্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি ক্যাপ জব্দ করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে অলিপ দত্ত হত্যাকাণ্ডে তার প্রকৃত ভূমিকা, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও আন্তবিভাগীয় সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০