সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ অভিযান: র্যাব মহাপরিচালক;| সুন্দরবনে ৫৯ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, উদ্ধার ৫৯ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৪১ রাউন্ড গুলি
[caption id="attachment_3689" align="aligncenter" width="300"]
ফাইল ছবি।[/caption]
বিশেষ প্রতিনিধি :
সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব র্যাবকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনায় র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযানে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান র্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।
এদিকে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে চলমান অভিযানে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন রয়েছেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান ও একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেলসহ মোট ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সাতটি ওয়াকিটকি, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবন দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের কারণে জেলে, মৌয়াল, বাওয়ালি এবং সুন্দরবননির্ভর মানুষেরা জিম্মি, চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন পরবর্তী সময়ে আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনীহা এবং হয়রানির আশঙ্কাসহ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে এখনো চার থেকে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদেরও অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য আগের চেয়ে উন্নত পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সুন্দরবনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেখানে র্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চাইলে র্যাবের ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের পথ ছেড়ে যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০