শুক্রবারের বিশেষ আমল >
জুমার দিনে যে ১০ আমল করবেন
দেশবার্তা বিডি২৪. কম ইসলামী ডেস্ক :
মুসলিমদের কাছে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামি সংস্কৃতিতে দিনটিকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এ দিনে নামাজের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ, আয়াত ৯)
জুমার দিনে যেসব আমল করা যেতে পারে—
১. পরিচ্ছন্নতা অর্জন
জুমার নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে নখ কাটা, গোঁফ ছাঁটা এবং শরীর-পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্ন নেওয়া উত্তম। এগুলো ইসলামের ফিতরাত বা স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতার অংশ। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৮৮৯)
২. গোসল করা
জুমার নামাজের আগে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে গোসল করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৪৪)
৩. পরিষ্কার পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার
জুমার দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, মিসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। এ বিষয়ে সহিহ বুখারিতে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (হাদিস ৮৮০)
৪. সুরা কাহফ তিলাওয়াত
জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলতের কথা বিভিন্ন হাদিসে এসেছে। তাই এ দিনে সুরা কাহফ পাঠ করা নেক আমল হিসেবে পালন করা হয়। (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস ৩৩৯২)
৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ
জুমার দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি এবং এ দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে বলা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৭)
৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া
জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে জুমার দিন মসজিদে আগত ব্যক্তিদের ক্রমানুসারে বিশেষ সওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৮১)
৭. হেঁটে মসজিদে যাওয়া
সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া নেক আমল। হাদিসে মসজিদের দিকে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সওয়াব ও মর্যাদা বৃদ্ধির কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম)
৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় নীরব থেকে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা উচিত। এ সময় কথা বলা বা অন্যকে কথা বলতে বলা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৪)
৯. জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায়
জুমার দিন জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, জুমার আজান হলে দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে মনোনিবেশ করতে বলা হয়েছে। (সুরা জুমআ, আয়াত ৯)
১০. বেশি বেশি দোয়া করা
জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে বলে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এ সময়টি কখন—এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। অনেক আলেম আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা উত্তম। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৩৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৮)
জুমার দিন শুধু নামাজ আদায়ের দিন নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী এসব আমল পালনের মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০