শিবগঞ্জে ভুয়া রায় দিয়ে জমির রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা, বাদীর ৭ দিনের কারাদণ্ড
👨💼মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে আদালতের ভুয়া রায় ও ডিক্রির কপি দাখিল করে জমির রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা করার অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আখতার উদ্দিনের ছেলে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার একটি বিবিধ মামলার শুনানির সময় বাদীপক্ষের লোকজন আদালতের রায় ও ডিক্রির কপি দেখিয়ে ১৪৩ ধারায় জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। তবে দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমার কাছে রায় ও ডিক্রির ফটোকপি সন্দেহজনক মনে হয়। বিশেষ করে বিচারকের স্বাক্ষর জাল বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তিনি আবেদনকারী রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল ইসলাম দাখিল করা রায় ও ডিক্রির কপি সঠিক নয় বলে স্বীকার করেন। পরে বিবাদীপক্ষের দাখিল করা আদালতের মূল রায় ও ডিক্রি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট আদালত মূল মামলাটি ডিসচার্জ (খারিজ) করেছিলেন। অথচ সেই রায়ের বিপরীতে নিজের তৈরি ভুয়া রায় ও ডিক্রির কপি আদালতের আসল নথি হিসেবে উপস্থাপন করে জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন তিনি।
শুনানিকালে জাল কাগজপত্র দাখিলের বিষয়টি স্বীকার করায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাঁকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এদিকে, ঘটনার পর ভূমি অফিসে উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের সতর্ক করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা বলেন, ভুয়া বা জাল কাগজপত্র দিয়ে নামজারি কিংবা বিবিধ মামলায় কোনো ধরনের আবেদন করা যাবে না। ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই স্বচ্ছতার সঙ্গে ভূমিসেবা পান, সে লক্ষ্যে ভূমি অফিসে নিয়মিত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কেউ ভূমি অফিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০