রাজশাহীতে নারীসহ সাবেক ওসি ফ্ল্যাটে, দুই ঘণ্টা পর ভাঙা হলো দরজা ;
ষষ্ঠ স্ত্রী পরিচয়ে নারীর ৯৯৯-এ ফোন, পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের অভিযান; দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে

দেশবার্তা বিডি ২৪. কম ডেস্ক :
রাজশাহী নগরের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীসহ অবস্থান করছিলেন পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা। বাইরে থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় ঘটনাটি গড়ায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর সঙ্গে থাকা নারীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
শুক্রবার সকালে নগরের চন্দ্রিমা থানার নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়া কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন। বর্তমানে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত এবং সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন।
ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে ওই কর্মকর্তার বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ফ্ল্যাটের বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা সানজিদা মৌ নিজেকে মাহবুবের স্ত্রী বলে দাবি করেন। মাহবুব আলমের দাবি, আন্নি আক্তারকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন।
৯৯৯-এ ফোন, এরপর ফায়ার সার্ভিস
আন্নি আক্তারের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম নাদের হাজির মোড়ের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন এবং তাঁর সঙ্গে সানজিদা মৌ নামের এক নারী রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দরজা খোলা হয়নি।
পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। এরপর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
আন্নির দাবি, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। পুলিশ ফোন করেও দরজা খোলাতে পারেনি। দরজা ভাঙার পর মাহবুব সানজিদাকে তাঁর স্ত্রী বলে পরিচয় দেন।
‘চার দিন আগে তালাক দিয়েছি’
থানায় নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহবুব আলম। তিনি বলেন, আন্নি আক্তারকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং সানজিদা তাঁর স্ত্রী। আন্নিকে তালাক দেওয়ার কাগজ তিনি পুলিশের কাছে দিয়েছেন বলেও জানান।
তবে সানজিদা মৌয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি। সানজিদাও সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, চার দিন আগে আন্নি আক্তারকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি ওই তালাকের কোনো কাগজ পাননি।
‘যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন
আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুবকে বিয়ে করার পর তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানতে পারেন।
আন্নির আরও দাবি, রাজশাহী নগরের পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুব আলমের একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগে সেখানে সানজিদা মৌয়ের সঙ্গে মাহবুবকে পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ
মাহবুব আলমের রাজশাহী আসার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই। কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশাহী যাননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।
[video width="1080" height="1920" mp4="https://deshbartabd24.com/wp-content/uploads/2026/09/InShot_20260918_150401134.mp4"][/video]
কমান্ড্যান্ট জানান, মাহবুব আলম ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশের অধীনে রয়েছেন। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তারা দেখবে।
আগেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন
২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকার সময় মাহবুব আলমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর খাম নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরে তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।
সিদ্ধান্তের আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপেক্ষা
শুক্রবার দুপুরে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে চন্দ্রিমা থানায় নেওয়ার পর আলাদা দুটি কক্ষে রাখা হয়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন আন্নি আক্তার।
চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌয়ের বিষয়ে তখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাহবুব আলম ও সংশ্লিষ্ট নারীদের দেওয়া বক্তব্য এবং বৈবাহিক সম্পর্কসংক্রান্ত দাবির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০