মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ: রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মমিনুল ইসলাম মুন,নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি, জমি দখলের চেষ্টা, হামলা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোসা. বিউটি খাতুন। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্নভাবে তাকে ও তার পরিবারকে হয়রানি করছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
রাজশাহী নগরীর অলোকার মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিউটি খাতুন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২২ সালে এক আত্মীয়ের অনুরোধে ফয়জুল নেসা বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে মানবিক কারণে তাদের বাসায় আশ্রয় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে টাকা চুরি, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট সেবন এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বলে দাবি করেন তিনি।
বিউটি খাতুন আরও বলেন, পরবর্তীতে ওই তরুণী ও তার পরিবারের অনুরোধে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সাত লাখ টাকা ধার দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় পাওনাদার আদালতের আশ্রয় নেন এবং তিনি ওই মামলার প্রধান সাক্ষী হিসেবে যুক্ত হন। এরপর থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া, চাকরি নষ্ট করার হুমকি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব ঘটনার কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ফজলুল বারী দুলু, উজ্জ্বল, মুন, পলাশ, সাত্তার, রনি, ইয়াসমিন, কামরুল, বৃষ্টি ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, এ-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ বর্তমানে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্তাধীন রয়েছে।
জমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে বিউটি খাতুন বলেন, প্রতিবেশী সুফিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তার দাবি, বৈধভাবে ক্রয় করা জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বছরের ১০ জুন ভাড়াটিয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে সুফিয়া, তার ছেলে মুন্নাসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় তিনি ও তার স্বামী আহত হন। এ সময় তার মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করা হয় এবং কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে চিকিৎসা গ্রহণের পর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে একটি মামলা রুজু হয়। ওই মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে থাকলেও একজন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিউটি খাতুন আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, চাকরি নষ্ট করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তার দাদি শহর বানুকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
তিনি দাবি করেন, এর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে সেসব অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিউটি খাতুন প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানি বন্ধ এবং তার ও পরিবারের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০