মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন,
দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা
মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এহ্সানুল কবীর টুকু তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে মিথ্যা,

ভিত্তিহীন ও মানহানিকর দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও একটি দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এহ্সানুল কবীর টুকু বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগ থেকেই শিক্ষা, সমাজসেবা, মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ভাটাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ দখল করে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একইভাবে প্রেমতলী জসিমউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাঁদের পরিবার প্রতিষ্ঠানটির জন্য জমি দান করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রেমতলী সুকেশীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব বিধি অনুযায়ী পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এমন কোনো বিশেষ তহবিল ছিল না, যা আত্মসাতের প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অর্থের বিনিময়ে পুনর্বহাল করার অভিযোগের সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান গৌরাঙ্গ বাড়ির সম্পত্তি দখল, বালুমহাল ও মসজিদের অর্থ আত্মসাতসহ তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বড় আষাড়িয়াদহ ও মালিগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিষয়টি সরেজমিন অনুসন্ধান করলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ ব্যক্তি, পরিবার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মানহানি ঘটায়।
সংবাদ সম্মেলনে এহ্সানুল কবীর টুকু ঘোষণা দেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সদর উদ্দিন, গোদাগাড়ী থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মালেক, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল ইসলাম এবং কাকনহাট পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০