মারধরের ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ তানোর ওসির বিরুদ্ধে ,;
আবারও মারধরের শিকার মাইনুল, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

👨💼নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :
রাজশাহীর তানোরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাইনুল নামে এক ব্যক্তিকে একাধিকবার মারধর, অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় মামলা নিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মাইনুলকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের বৈদপুর এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৬ মে রাতের আঁধারে মাইনুলকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইনুলের বোন বাদী হয়ে তানোর থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৩, জিআর নম্বর ১০৬। মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসার পর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মাইনুল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে মাইনুল বিষয়টি তানোর থানার ওসিকে অবহিত করেন এবং পরবর্তীতে থানায় অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর 18Y8CP এবং জিডি নম্বর ১৫২৯, তারিখ ৩০ আগস্ট ২০২৬।
অভিযোগে উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন—আবুল খায়ের কাজল, গোলাম মোস্তফা, শাজাহান আলী, নুর ইসলাম, সোহেল রানা, মেরেজ আলী, জিল্লুর রহমান ও মাসুদ রানা।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের মামলা ও জিডির পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে মাইনুলকে আবারও রাস্তায় বাধা দিয়ে জনসম্মুখ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বকুল নামে এক ব্যক্তি বিষয়টি জানতে পেরে তানোর থানার ওসি ও মুন্ডুমালা তদন্ত পুলিশ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে কন্ধপুর খাড়ি এলাকা থেকে মাইনুলকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য তানোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সর্বশেষ ঘটনার পর মাইনুলের পরিবারের সদস্যরা মামলা করার জন্য একাধিকবার তানোর থানায় গেলেও মামলা গ্রহণ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ফলে মাইনুলের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইতে গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মামলা না নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, “মামলা নিইনি—এমন কথা নয়। তাদের আইডি কার্ড আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা আইডি কার্ড আনতে পারেনি। এছাড়া অভিযোগে অনেক কিছু ভুল ছিল। এ কারণে তখন রেকর্ড করা হয়নি। তবে মামলা রেকর্ড করা হবে।
মামলা নিতে কোনো পক্ষের প্রভাব বা গড়িমসি করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
এদিকে, পরপর হামলা, হুমকি ও মামলা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে মাইনুলের পরিবারে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০