ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি: রাজশাহীর বাঘায় দুই প্রতারক গ্রেপ্তার
মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাঘা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তল, একটি মোটরসাইকেল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৬ আগস্ট বিকেলে বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের পিয়াদাপাড়া গ্রামের আরিফা বেগমের বাড়িতে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে দুই ব্যক্তি অভিযান চালানোর ভান করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে পুনরায় চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে গেলে তাদের আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন দুইজনকে আটক করে বাঘা থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক দুই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আটকরা হলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের মো. হাসিবুল হাসান (২৪) এবং মারিয়া গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩৩)।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একই চক্র ৫ আগস্ট দুপুরে আরিফা বেগমের বাড়ি থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি পিস্তল সদৃশ খেলনা অস্ত্র, সেটির কভার, একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে বাঘা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া হাসিবুল ২০২০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। চাকরিকালীন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সেনাবাহিনীর বিধি অনুযায়ী ২০২৫ সালে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, চাকরি ছাড়ার পর তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বাঘা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং তাদের সম্ভাব্য অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদঘাটনে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে পুলিশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০