বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল ;
তীব্র লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ, কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই
বিশেষ প্রতিনিধি :
একসঙ্গে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও বেড়েছে। আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট ও আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। কোথাও কোথাও দিনে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে বড় ঘাটতি দেখা দেয়।
শহরাঞ্চলে দিনে কয়েক দফা করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ। কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
একাধিক কেন্দ্র বন্ধ
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বুধবার ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। পরে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে ঢাকা অঞ্চলের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ অথবা আংশিক সক্ষমতায় চলছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
কমেছে আদানির উৎপাদন
ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমতে শুরু করে। গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল।
বুধবার রাতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন আবার ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস ও কয়লা সরবরাহের সংকট অব্যাহত থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ-চাহিদার ব্যবধান আরও বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে গ্রাহক পর্যায়ে। তীব্র লোডশেডিংয়ে গরমের মধ্যে মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০