
বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: মাদক দমন, নগর নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম ডেস্ক,ঢাকা:
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরদিকে পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।
👉Visit to get the latest news
http://www.deshbartabd24.com
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা
সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার প্রতিরোধ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন,
দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি) পেতে জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর ফলে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টির মানবিক সমাধানে পাকিস্তান সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত এ প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা কামনা করেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানবিক সংকটে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০