প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে কিশোরী কন্যাকে হত্যা, বস্তাবন্দি করে সড়কে ফেলে বাবা-মায়ের আড়ালের চেষ্টা
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম ডেস্ক খুলনা:
প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ১৬ বছর বয়সী নিজের কন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সড়কের পাশে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হলেও মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাত পরিচয়ের এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু হয়।
🌎Visit to get the latest news
http://www.deshbartabd24.com
তদন্তে পিবিআই, সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তিনি সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)।
পরবর্তীতে নির্জনার বাসায় গিয়ে তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ লাঠি দিয়ে মেয়ের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নির্জনার মৃত্যু হয়। পরে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নিহতের বাবা-মা দুজনই এই হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত। পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০