প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ে, ইসলামের বিধান কী?
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম, ইসলামী ডেস্ক :
ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে অনেক তরুণ-তরুণী পরিবারকে না জানিয়ে বা অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কেউ কেউ আবার প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এমন বিয়ের বিধান কী—এ নিয়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফিকহি আলোচনা।
ইসলামে বিয়ে শুধু দুজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল ও সামাজিক বন্ধন। পবিত্র কোরআনে অবিবাহিতদের বিয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়েতে পরিবার ও অভিভাবকের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া কোনো বিয়ে নেই।’ এ বিষয়ে সুনান আবু দাউদ ও তিরমিজিসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণনা রয়েছে। আরেক বর্ণনায় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সম্পাদিত বিয়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলামী ফিকহের অধিকাংশ আলেমের মতে, নারীর বিয়েতে ওলি বা বৈধ অভিভাবকের উপস্থিতি ও সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বিশেষ করে ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মত অনুযায়ী, ওলি ছাড়া বিয়ে সহিহ নয়।
তবে এ বিষয়ে ফিকহে মতভেদ রয়েছে। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন নারী উপযুক্ত পাত্রকে নিজে বিয়ে করতে পারেন—যদিও বিয়েতে অভিভাবকের সম্পৃক্ততাকে নিরাপদ ও উত্তম পদ্ধতি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ‘পালিয়ে বিয়ে করলেই সব ক্ষেত্রে বিয়ে অবৈধ’—এমন সরল সিদ্ধান্ত দেওয়া ফিকহি মতভেদের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে পরিবারকে গোপন রেখে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা ইসলামের আদর্শ পদ্ধতি নয়। কারণ এর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক জটিলতা, সম্পর্কচ্ছেদ এবং ভবিষ্যতে নানা সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ইসলাম বিয়েকে প্রকাশ্য, দায়িত্বশীল ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে।
অভিভাবক যদি অন্যায়ভাবে উপযুক্ত কোনো বিয়েতে বাধা দেন, তখন বিষয়টি সমাধানের জন্য শরিয়তসম্মত পন্থা অবলম্বনের সুযোগ রয়েছে। ইসলামী বিচারব্যবস্থায় কাজী বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ ধরনের জটিলতার সমাধানের কথাও ফিকহে আলোচিত হয়েছে।
এ কারণে শুধু আবেগের বশে পরিবার থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত না নিয়ে উভয় পক্ষের পরিবার, অভিভাবক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে শরিয়তসম্মতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করাই উত্তম। আর কোনো বিয়ে ইতোমধ্যে হয়ে গেলে সেটি বৈধ কি না—তা নির্ধারণে বিয়ের সময়কার শর্ত, সাক্ষী, অভিভাবকের ভূমিকা, মাজহাব ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সারকথা, ইসলাম ভালোবাসা ও বিবাহের বৈধ পথকে অস্বীকার করে না; বরং সম্পর্ককে দায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও সামাজিক মর্যাদার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্দেশনা দেয়। তাই আবেগের বশে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবার ও অভিভাবকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বৈধ ও সম্মানজনকভাবে বিয়ে সম্পন্ন করাই ইসলামের মূলনীতির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০