পরপর দুই মাসে স্বীকৃতি ;
জুলাইয়ে শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক, আগস্টে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সিরাজগঞ্জ থানার রাকিবুল হাসান রাকিব
[caption id="attachment_4318" align="aligncenter" width="300"]
ওসি মো. রাকিবুল হাসান রাকিবের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আশিক সাঈদ ও পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।[/caption]
👨💼মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী :
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ে ধারাবাহিক কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পেয়েছেন সিরাজগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান রাকিব। পরপর দুই মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে তিনি পেয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্বীকৃতি। জুলাই মাসে শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত হওয়ার পর এবার আগস্ট মাসের মূল্যায়নে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন।
আগস্ট ২০২৬ মাসের সার্বিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ থানার কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কনস্টেবল আলাউদ্দিন ড্রিলশেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় ওসি মো. রাকিবুল হাসান রাকিবের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।
এক মাসের ব্যবধানে দুই স্বীকৃতি
পুলিশের মাসিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে পরপর দুই মাসে স্বীকৃতি পাওয়ায় ওসি রাকিবুল হাসান রাকিবের পেশাগত কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগে জুলাই ২০২৬ মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে তিনি শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত হন। সে সময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আশিক সাঈদের কাছ থেকে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন।
[caption id="attachment_4319" align="aligncenter" width="300"]
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আশিক সাঈদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন শ্রেষ্ঠ ওসি রাকিবুল হাসান রাকিব।[/caption]
এর ধারাবাহিকতায় আগস্ট মাসের মূল্যায়নে এবার সিরাজগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পেলেন সিরাজগঞ্জ থানার এই কর্মকর্তা।
যে কারণে শ্রেষ্ঠ ওসি
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাসিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, জননিরাপত্তা, পুলিশি সেবার মান, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এসব সূচকে সিরাজগঞ্জ থানার কার্যক্রম মূল্যায়নের পর আগস্ট মাসের জন্য ওসি মো. রাকিবুল হাসান রাকিবকে জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবা সহজ ও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের মাধ্যমে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ও জবাবদিহি বাড়ে।
‘এ অর্জন পুরো থানার পুলিশ সদস্যদের’
সম্মাননা পাওয়ার পর ওসি মো. রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া তার জন্য আনন্দ ও গৌরবের। তবে এ অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। সিরাজগঞ্জ থানায় কর্মরত সব পুলিশ সদস্যের আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতার সম্মিলিত ফল হিসেবেই তিনি এ স্বীকৃতিকে দেখছেন।
তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন বা মামলা পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং বিপদে পড়া মানুষকে যথাযথ পুলিশি সেবা দেওয়াও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। থানায় এসে কোনো মানুষ যেন হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন এবং প্রয়োজনীয় সেবা পান—এ লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।
ওসি রাকিবুল হাসান
"দেশবার্তা বিডি২৪. কম" কে বলেন,
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা এবং সিরাজগঞ্জ থানার সব পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরস্কার
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।
পরপর দুই মাসে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি পাওয়ায় ওসি রাকিবুল হাসান রাকিবের সহকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। জেলা পুলিশের মাসিক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এ ধরনের স্বীকৃতি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা, পেশাগত দক্ষতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে আরও উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০