পদ্মার তীর রক্ষায় বাঘায় এসিল্যান্ড নুসরাত জাহানের অভিযান,
বালু মজুদে নদীর পাড় ভাঙন ও জিও ব্যাগ ক্ষতির আশঙ্কা, সতর্ক করা হলো সংশ্লিষ্টদের
মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরপুর এলাকায় পদ্মা নদীর তীর ও বাঁধের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নদীর তীরবর্তী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে নদীর তীরবর্তী স্থানে বালু মজুদের বিষয়টি পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা। এ সময় বালু মজুদের কারণে নদীর পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্থাপিত জিও ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ও উপস্থিত ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়।
নুসরাত জাহান অনন্যা বলেন, পদ্মা নদীর তীর ও বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও জনকল্যাণমূলক সম্পদ। নদীর তীরের স্বাভাবিক প্রবাহ ও স্থাপিত প্রতিরক্ষা অবকাঠামো কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। বালু মজুদের কারণে নদীর পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং এতে সরকারি অর্থে নির্মিত জিও ব্যাগসহ নদী রক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবকাঠামো ব্যবহার না করে বিকল্প পদ্ধতিতে বালু মজুদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়েও উপস্থিতদের অবহিত করা হয়। নদীর তীর, বাঁধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পদ্মা নদী ও নদীর বাঁধ শুধু সরকারি সম্পদ নয়, এটি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, বসতভিটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে নদীর তীর রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান অনন্যা সংশ্লিষ্টদের নদীর তীর ও বাঁধের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পদ্মা নদী ও নদীর বাঁধ রাষ্ট্রীয় ও জনকল্যাণমূলক সম্পদ। এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি এলাকার সর্বস্তরের জনগণের নৈতিক দায়িত্ব।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০