নাচোল ভূমি অফিসে বহিরাগতদের দাপটের অভিযোগ
;সরকারি চেয়ারে বসে জমির কাজ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে এক বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও অফিসের ভেতরে সরকারি চেয়ারে বসে জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করা, খাজনা পরিশোধে সহায়তার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রভাবিত করার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে শরিফ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বসে জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও তিনি খাজনা পরিশোধ, নামজারি-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং অন্যান্য ভূমি-সেবা কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকেন। প্রতিটি কাজের জন্য সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিসের দায়িত্বরত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যিনি শরিফের বাবা, সেবাগ্রহীতাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে না পাঠিয়ে শরিফের কাছে পাঠিয়ে দেন। ফলে অধিকাংশ মানুষ সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে একজন বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা অজুহাতে কাজ আটকে রাখা হয়। টাকা না দিলে কাজ এগোয় না। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ করাতে হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শরিফ প্রায় এক যুগ ধরে অফিসে বসে বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত-সংক্রান্ত কাজেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি বিধি অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের। সেখানে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি সরকারি অফিসে বসে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রশাসনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শরিফ বলেন, “আমি সরকারি কর্মচারী নই। কর্মকর্তার নির্দেশে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করি। অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।”
ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সাইফুল ইসলাম বলেন, “শরিফ দীর্ঘদিন ধরে অফিসে আসে। তবে তার কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী নিয়োগ নেই।”
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া বলেন, “এর আগেও তাকে অফিসে বসতে নিষেধ করা হয়েছিল। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি কার্যালয়ে কোনো বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা জনসেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০