তানোরে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, রামেকে ভর্তি
👨💼 মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিনিধি,রাজশাহী :
রাজশাহীর তানোরে চার বছরের এক শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে বুধবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা মঙ্গলবার সকালে তানোর থানায় তিনজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত কিশোরের পাশাপাশি তার মা ও দাদিকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের রামদেবপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার সেলিম রেজার ছেলে সবুজ (১২) ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, সে চার বছরের ওই শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
এ সময় শিশুটির মা জানালা দিয়ে বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে দিয়ে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর অভিযুক্তের মা ও দাদি শিশুটির চিকিৎসার খরচ বহনের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তার মাকে অনুরোধ করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির মা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কিশোরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
পরে মঙ্গলবার সকালে শিশুটির মা তানোর থানায় গিয়ে অভিযুক্ত সবুজ, তার মা ও দাদিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর মুন্ডমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন।
এদিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কলটি ব্যস্ত করে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, বিষয়টি মীমাংসার জন্য শিশুটির পরিবারকে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত কিশোরের বাবা সেলিম রেজা মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি, মেয়েটির বাবা ও চাচা ফরিদপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছি। বিষয়টি শুনেছি। মেয়েটির বাবা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন, আমিও যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমার ছেলে নানার বাড়িতে থাকে। বাড়িতে বেড়াতে এসে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি সত্য না মিথ্যা, আমি জানি না।’
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত কিশোরের বয়সের বিষয়টি নিয়েও পুলিশ কাজ করছে জানিয়ে ওসি বলেন, সঠিক বয়স নির্ধারণের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০