ফাইল ছবি
তানোরে লক্ষ্যমাত্রার আগেই ধান সংগ্রহ সম্পন্ন, অনিয়মের অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি কর্মকর্তা ও কৃষকদের
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী :
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং খাদ্য বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শেষ করা হয়। এদিকে ধান সংগ্রহে অনিয়মের যে অভিযোগ সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। একই দাবি করেছেন ধান বিক্রি করা স্থানীয় কৃষকরাও।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তানোর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান, ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩০০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সংগ্রহ কার্যক্রম ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা আগেই পূরণ হওয়ায় সময়ের আগেই ধান সংগ্রহ সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রস্তুত করা তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই সরকার নির্ধারিত দরে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিয়মতান্ত্রিক। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল বা সিন্ডিকেটকে এ কার্যক্রমে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তানোর উপজেলার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, “এবার কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকারি গুদামে ধান দিতে পেরেছি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ ও সহজ। প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন।”
মোহর গ্রামের কৃষক তুষার বলেন, “আমাদের গ্রামের অনেক কৃষক এবার সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করেছেন। কোনো ঝামেলা হয়নি। অনিয়মের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।”
তানোর খাদ্যগুদামের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মামুন বলেন, “সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ধান সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। একটি পক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কাল্পনিক ও মনগড়া অভিযোগ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।”
তানোর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আফরোজা খাতুন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে শুধুমাত্র প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান মেনেই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভীন বলেন, “সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। যারা অবৈধ সুবিধা নিতে পারেনি, তারাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ধান বিক্রি করা কৃষকদের ভাষ্য, সরকারি ধান সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ায় প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন এবং কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ধান বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়; বরং সফল ও স্বচ্ছ ধান সংগ্রহ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০