তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর পৌরসভার আকচা গ্রামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় জুয়ার দেনা আদায়কে কেন্দ্র করে মানসিক চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা চারজনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম এখলাসুর রহমান আহাদ (২১)। তিনি তানোর পৌরসভার রায়তান বাজে আকচা গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাপ আলী ও চামেলী বিবির ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন গভীর রাতে আহাদ নিজ বাড়ির একটি ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় তানোর থানায় অপমৃত্যু মামলা নং-২৯/২০২৬ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে নিহতের পরিবার বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।
নিহতের মা চামেলী বিবির অভিযোগ, স্থানীয় রাব্বানীসহ অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলেকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন। জুয়ার টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত ১১ জুন রাত প্রায় ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির সামনে এসে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেন।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও জুয়ার দেনার চাপের কারণে আহাদ চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। আত্মহত্যার আগে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথোপকথনে ওই চাপের বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন বলেও স্বজনদের দাবি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আহাদকে একাধিকবার শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। বিষয়গুলো সম্পর্কে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা রাব্বানী ঘটনার পর থেকে এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ পারভেজ বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনো পায়নি । অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০