তানোরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক;
‘অভিযোগ মিথ্যা, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা’—দাবি মিলনের; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
[caption id="attachment_3685" align="aligncenter" width="300"]
প্রতীকী ছবি[/caption]
বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের দেওলা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা চলছে। অভিযোগটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত মিলন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগে উল্লিখিত নারী ও মিলনের বয়সের ব্যবধান নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে সচেতন মহলের মতে, শুধু বয়সের ব্যবধানের ভিত্তিতে কোনো অভিযোগকে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে নির্ধারণ করা যায় না। ঘটনার প্রেক্ষাপট, অভিযোগের সময়কাল, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে। তাদের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মিলনের সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হোক; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে এর পেছনে কারও উদ্দেশ্য বা ইন্ধন ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হোক।
মিলনের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে গুরুতর একটি অভিযোগে জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
অভিযোগটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আরও কিছু প্রশ্ন রয়েছে—ঘটনাটি যদি অভিযোগ অনুযায়ী আগে ঘটে থাকে, তাহলে অভিযোগ করতে বিলম্বের কারণ কী এবং পরবর্তীতে কোন পরিস্থিতিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অভিযোগকারী নারী কেন বা কী কারণে বিলম্বে অভিযোগ করেছেন, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, গুরুতর কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন অনুচিত, তেমনি অভিযোগকারী নারীর বক্তব্যও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা সচেতন মহল বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না মিললে তাকে ফাঁসানোর পেছনে কারও ইন্ধন বা উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মিলন বলেন, ‘আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। আমি অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে যারা আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।’
এদিকে, দেওলা ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের স্থানীয়দের দাবি—গুজব বা মুখরোচক আলোচনার ভিত্তিতে নয়; বরং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য, ঘটনার সময়কাল, প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যাচাই করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০