গোদাগাড়ীতে ইউপি সদস্য তোজাম্মেলের বিরুদ্ধে মাদকসহ নানা অভিযোগ ;
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণস্বাক্ষরসহ অভিযোগ, অস্বীকার অভিযুক্তদের
[caption id="attachment_4655" align="aligncenter" width="249"]
ছবিতে ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হক।[/caption]
👨💼বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজ শাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উজানপাড়া গ্রামে মাদক কারবার, সালিশে প্রভাব বিস্তার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর পাঠানোর দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের অনুলিপি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগটি ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের ডায়েরি নম্বর-৫৬।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উজানপাড়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা চলছে। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হক ও তার চাচাতো ভাই আলামিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। আলামিন সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল থেকে মাদকের চালান সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, তোজাম্মেল হক ইউপি সদস্য হওয়ার পর এলাকায় তার প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পুসুন্ডা মৌজার জেএল নম্বর-২২৩ এলাকায় প্রায় ১০-১১ বিঘা এবং জৈত জয়রামপুর মৌজার জেএল নম্বর-২১৯ এলাকায় প্রায় ৩-৪ বিঘা জমি কেনার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস ও বৈধতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ ছাড়া স্থানীয় গ্রাম্য সালিশে পক্ষপাত, অর্থের বিনিময়ে রায় দেওয়া, বিরোধীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং থানায় বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যস্থতা করার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নারীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও সামাজিক অনাচারের অভিযোগও রয়েছে ওই লিখিত অভিযোগে।
অভিযোগকারীরা তোজাম্মেল হক ও আলামিনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কথিত অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হক অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে একজন পুলিশের সঙ্গে বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
আলামিনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে বিরোধের কারণে একটি কুচক্রী মহল আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার করছে।’
এদিকে অভিযোগে যেসব মাদক কারবার, সম্পদ অর্জন ও অন্যান্য অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থার তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ; অভিযুক্তরা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০