খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সোনাডাঙ্গা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা ও তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
[caption id="attachment_529" align="alignnone" width="300"]
নির্যাতনকারী পুলিশ দম্পতি[/caption]
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে তাদের খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক ফারুক ইকবাল এ আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার স্ত্রী পপি রানী সাহাকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার বিকেল থেকে পুলিশ দম্পতিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে রান্নার সময় তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্মীকে মারধর করেন পপি রানী সাহা। একপর্যায়ে তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোরী নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকারের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বুধবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদেরও থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বৃহস্পতিবার সকালে খুলনায় এসে মামলা করেন।
ওসি রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। ভিডিওটি দেখে ভুক্তভোগীর মা খুলনায় আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা গৃহকর্মীর পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”
ঘটনার পর স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০