কুমিল্লা আদালতে বিচার চলাকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন
👨⚖️ আখিঁ খাতুন নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা :
কুমিল্লা আদালতে বিচার চলাকালে মামলার বাদী সাংবাদিক সালমা আক্তারের ওপর হামলা করে তাঁকে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শাহনাজ আক্তার সুমনা নামের এক নারীকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। তাঁর আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং কুমিল্লার আদালতে আরেকটি জি.আর মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১ নম্বর আমলি আদালতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক সালমা আক্তার। তিনি জাতীয় দৈনিক বাংলার নবকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই দিন সি.আর. দ্রুত বিচার মামলা নম্বর ৩৭/২৪-এর ধার্য তারিখে হাজিরা দিতে আদালতে গেলে বিচারকাজ চলাকালে মামলার বিবাদী শাহনাজ আক্তার সুমনা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন বলে দাবি করেন।
সালমা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি আদালতের ভেতরে বিচারকের উপস্থিতিতে ঘটে। এ সময় আদালতের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেছেন।
আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
সাংবাদিক সালমা আক্তারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনার বিরুদ্ধে অন্য তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ১ নম্বর আমলি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে একটি জি.আর মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতে হামলার ঘটনার পর তাঁর পক্ষের আইনজীবী অভিযুক্তের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্য মামলায় পরোয়ানা থাকার বিষয়টিও আদালতকে জানানো হয়। তবে এরপরও অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সালমা আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরোয়ানাসংক্রান্ত মামলাগুলো হলো—দাউদকান্দির সি.আর. মামলা নম্বর ১১৫২/২৫, দণ্ডবিধির ৩৮০/৪৪৫/৫১১/৩৪ ধারা; সি.আর. মামলা নম্বর ৯৮০/২৪, দণ্ডবিধির ৩৮০/৪৫৪/৩৪ ধারা এবং কোতোয়ালি থানার জি.আর. মামলা নম্বর ৪২০/২৬, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় দায়ের করা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কার্যকারিতা সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
‘বিচার চাইতে গিয়ে আমিই হামলার শিকার’
সাংবাদিক সালমা আক্তার বলেন, “আমি আদালতে বিচার চাইতে গিয়েছিলাম। অথচ সেখানেই আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং একই আদালতে অন্য একটি মামলা চলমান থাকার বিষয়টি বিচারককে জানিয়েছি। আমার আইনজীবীও জামিন বাতিলের আবেদন করেছিলেন। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আমার অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছি কি না, তা জানতে আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোন বারবার পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও আমি অভিযোগ করছি। আদালতে যদি নিরাপত্তা না পাই, তাহলে ন্যায়বিচার পাব কোথায়?”
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিচারপ্রার্থী একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তাঁর মতে, আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে তা যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নথি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#