কক্সবাজার চকরিয়ায় যুবদল নেতা জিসান হত্যা: নোহা গাড়িসহ ২ আসামি গ্রেপ্তার

জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুবদল নেতা মো. জিসান (২৬) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার ছাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে জিসানকে একটি সাদা নোহা গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়। পরে খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া এলাকায় সড়কের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের মাধ্যমে জিসানের পরিচয় নিশ্চিত করে।
এ ঘটনায় জিসানের ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর চকরিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় রেজিয়া সুলতানা, নাজিম উদ্দিন, বেগম নাজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জাকারিয়া, মিনহাজ উদ্দিন ও একে তারেকসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্য দেন বলে দাবি পুলিশের।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ অক্টোবর ভোরে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং এলাকা থেকে জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভারকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিলভার রঙের নোহা গাড়ি (চট্টমেট্রো-চ-১১-৫৯৬৯) জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ভিকটিম জিসানের সঙ্গে এজাহারভুক্ত আসামি রেজিয়া সুলতানার ব্যবসায়িক লেনদেন ও বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ বিরোধের জেরে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং ভাড়াটে অপহরণকারী ও খুনিদের মাধ্যমে জিসানকে অপহরণ করে হত্যা করা হয় বলে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
চকরিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার এজাহারভুক্তসহ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০