এসএসসি সনদ নিতে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগ, তানোরের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ
মমিনুল ইসলাম মুন স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ বিতরণের নামে অর্থ আদায়, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থের অনিয়ম এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক অভিভাবক।
অভিযোগকারী মো. হুমায়ুন কবির উপজেলার শিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে মো. সাহারিয়ার হোসেন শিশির ২০২৪ সালে বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সনদ তুলতে গেলে প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান তার কাছ থেকে অনৈতিকভাবে ৮০০ টাকা দাবি করেন এবং পরে সেই টাকা গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে সনদ, কাগজপত্র ও অন্যান্য সেবার নামে টাকা আদায় করা হয়, যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ প্রদানের সময় অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "প্রথমে ৩০০ টাকা, পরে আরও ৩০০ টাকা এবং জেএসসি সনদ থাকলে আরও ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এই টাকা বোর্ড নির্ধারিত নয়, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়।"
প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, "সব স্কুলে না হলেও আমাদের স্কুলে এই টাকা নেওয়া হয়।" এ সময় সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদককে চা খাওয়ারও প্রস্তাব দেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদকের কাছে এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও সাবেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে একজন সহকারী শিক্ষক এবং পরবর্তীতে অফিস সহায়ক, আয়া, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা হয় এবং বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দ পেলেও বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বা অভিযোগটি তাদের নজরে এলে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনদ বিতরণসহ সব ধরনের সেবায় অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০