এসএসসি সনদ নিতে 'ঘুষ' নেওয়ার অভিযোগ: তানোরের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি
বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার মূল সনদ বিতরণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়, নিয়োগ বাণিজ্য, বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় শিক্ষা অফিস, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজশাহীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. হুমায়ুন কবির রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিকপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে মো. সাহারিয়ার হোসেন শিশির ২০২৪ সালে বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। সম্প্রতি মূল সনদ তুলতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার কাছ থেকে অনৈতিকভাবে ৮০০ টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই বিষয়ে গত ২ জুলাই ২০২৬ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে নতুন করে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আর্থিক বরাদ্দ পেলেও বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী আরও বলেন, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান এর আগে প্রতিবেদককে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ প্রদানের সময় অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "প্রথমে ৩০০ টাকা, পরে আরও ৩০০ টাকা এবং জেএসসি সনদ থাকলে আরও ৩০০ টাকা নেওয়া হয়।" তিনি দাবি করেন, এই অর্থ শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি নয়; বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদককে চা খাওয়ারও প্রস্তাব দেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে— জেলা প্রশাসক, রাজশাহী; বিভাগীয় শিক্ষা অফিসার, রাজশাহী; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), রাজশাহী; বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী; রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য; মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী; মাননীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী; মাননীয় ভূমিমন্ত্রী; সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) রেহান আসাদের দপ্তরে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনদ বিতরণসহ সব ধরনের সেবায় অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০