
উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা,রাজশাহী-রংপুর-ময়মনসিংহে ২–৩ দিন ঝরতে পারে ভারী বর্ষণ
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম, ডেস্ক :ঢাকা, ১১ জুলাই:
টানা বর্ষণে দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি চলমান থাকলেও এবার উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এ কারণে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় জারি করা সতর্কসংকেত শিগগিরই প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগানে। এছাড়া যশোরে ৮৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮০, রাঙামাটিতে ৭৭, সিলেটে ৬৫ এবং রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরায় ৬১, হাতিয়ায় ৫৫, ঢাকায় ৪৬, আরিচায় ৪২, সৈয়দপুরে ৩৭, ভোলায় ৩৪ এবং চট্টগ্রাম শহরে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও পাঁচটি জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরী, ফেনী ও সেলোনিয়া নদীর পানি কমলেও গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ সংশ্লিষ্ট নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এর ফলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতিরও ক্রমান্বয়ে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০