ইউএনও লিয়াকত সালমান ও এসিল্যান্ড শিবু দাসের উদ্যোগে হাড়খালি খালে ১৭টি অবৈধ জালের বাঁধ অপসারণ

মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি রাজশাহী :
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিওপাড়া ইউনিয়নের হাড়খালি খালে মাছ ধরার জন্য তৈরি করা ১৭টি অবৈধ জালের বাঁধ অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছয়টি বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে হাড়খালি খালের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান। তাঁর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের সমন্বয়ে জিওপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জিওপাড়া ইউনিয়নের ছয়টি বিলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হাড়খালি খাল। দীর্ঘদিন ধরে এ খাল দিয়ে বিভিন্ন বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়ে থাকে। সম্প্রতি খালের বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে জাল দিয়ে বাঁধ তৈরি করেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং বিলগুলোর পানি নিষ্কাশনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল।
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউএনও লিয়াকত সালমান দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনা ও সমন্বয়ে সকালে খালের বিভিন্ন অংশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে খালের ওপর স্থাপন করা প্রায় ১৭টি জালের বাঁধ শনাক্ত করে অপসারণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ ধরার জন্য অবৈধভাবে জালের বাঁধ তৈরি না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাড়খালি খালটি জিওপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি বিলের পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালের বিভিন্ন স্থানে জালের বাঁধ থাকায় পানি আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের অভিযানের মাধ্যমে এসব বাঁধ অপসারণ করায় পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, খাল, বিল ও জলাধারের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ রক্ষা করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে হাড়খালি খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালের পানি প্রবাহ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০