আরও দুই দিন টানা বৃষ্টির আভাস, কিছু এলাকায় অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম ডেস্ক :
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের কারণে সারা দেশে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী অন্তত দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ জুলাই রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
Visit to get the latest news
http://www.deshbartabd24.com
১১ জুলাই ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিনও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
১২ জুলাই রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং দেশের অন্যত্র বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আর ১৩ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায় সর্বোচ্চ ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ৩০০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ২৪৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২৩৫ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ১৪২ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৩০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১২৫ মিলিমিটার এবং তেঁতুলিয়ায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই দুর্যোগপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র : আবহাওয়া অধিদপ্তর
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০