অর্থ পাচার-কর ফাঁকির অভিযোগে শীর্ষ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলার প্রস্তুতি
বিএফআইইউর নেতৃত্বে যৌথ তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণের দাবি; আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রস্তুতি
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম ডেস্ক: ৯ জুলাই ২০২৬।
অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, ঋণ জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে দেশের শীর্ষ ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্তের আওতায় থাকা শিল্পগোষ্ঠীগুলো হলো— এস আলম, বেক্সিমকো, নাবিল, সামিট, ওরিয়ন, জেমকন, নাসা, বসুন্ধরা, সিকদার ও আরামিট গ্রুপ।
বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, "যৌথ তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। এখন আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে দেওয়ানি মামলা করা হবে।"
🌎Visit to get the latest news
http://www.deshbartabd24.com
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম নয়, সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
যৌথ তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএফআইইউ। অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আইনি সহায়তা দিচ্ছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
সরকারি সূত্র জানায়, তদন্তে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা অর্জন, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গঠন, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ঋণের ব্যবহার, অর্থের প্রবাহ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তদন্তের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সম্পদের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে ধাপে ধাপে এসব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আশাবাদী।"
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০